March 31, 2020

প্রভাষ আমিনের সঙ্গে আমি একমত যে, জিয়াউর রহমানের একটা নির্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া দরকার যা এখনো করা হয়ে উঠেনি। এটুকু বলে থামলে কথা ছিল। কিন্তু সেখানে তিনি থামেননি। আরো এগিয়ে তিনিই এই গুরুভার কাঁধে নিয়েছেন। কিন্তু নির্মোহ হতে পারেননি।

তিনি মূল্যায়ন করে সারমর্ম লিখেছেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন সুযোগসন্ধানী ও ভাগ্যবান সৈনিক কাম রাজনীতিবিদ’।

প্রভাষ আমিনকে বলি, আধা চোখ দিয়ে পলিটিক্যাল ক্যারেক্টারের মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। জিয়াউর রহমানের মতো বহুবর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক চরিত্রকে তো নয়ই। আর এই নির্মোহ মূল্যায়ন করার জন্য যে পদ্ধতি গ্রহণ করা দরকার সেটাও আপনার আয়ত্তে নেই।

জিয়াউর রহমান একজন কট্টর বৃটিশ ভ্যালুজ নিয়ে পেশাদার সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। পেশাদারিত্বের কঠোর পোশাক ছেড়ে তিনি বেরিয়ে আসেন সেদিন, যেদিন সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাস করতে গিয়ে ফিরে এসে নিজ কমান্ডার জানজুয়াকে হত্যা করেন। এটা একটা অসম্ভব কাজ একজন পেশাদার সৈনিকের জন্য। কিন্তু তিনি ভুল করেন নি। পেশাদারিত্বের উর্ধ্বে কখন জাতির মুক্তির আকাঙ্খাকে স্থান দিতে হয়, এই ঘটনা তাঁর উজ্জ্বলতম উদাহরণ। এরপর তিনি ফিরে যান পেশাদার সৈনিকের ভূমিকায় যিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অনুগত। এই ভূমিকায় ছিলেন ১৯৭৫-এর ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত। ৭ই নভেম্বরের ঘটনা তাঁকে নতুনভাবে নির্মাণ করে। তিনি হয়ে ওঠেন রাজনীতিবিদ। তিনি বন্দী ছিলেন, সৈনিকেরা তাকে মুক্ত করে। তিনি ৭ নভেম্বর ঘটাননি, ঘটানোর সুযোগও ছিল না। বরং ৭ই নভেম্বর তাকে নির্মাণ করেছে। ক্ষমতার জন্য জিয়ার লালসার প্রমাণ অবজেক্টিভলি কেউ দিতে পারবে না।

১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট যখন তাকে শেখ মুজিবের মৃত্যু সংবাদ দেয়া হয়, তখন তিনিই বলেছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্টের  ক্ষমতা নেয়া উচিত এবং আমাদের সংবিধানকে উর্ধ্বে তুলে ধরা উচিত। সেদিন যদি জিয়ার কথা শোনা হতো, তাহলে খন্দকার মুশতাক রাষ্ট্রপতি হয় না; জেলহত্যাও হয় না। ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত যে অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থানের বেদনা বাংলাদেশকে নিতে হয়েছে, সেটাও ঘটতো না।

তিনি জনপ্রিয় সেনা অফিসার ছিলেন, জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। ভাগ্য তাকে কখনো সহায়তা করেনি। করলে তিনি নির্মমভাবে নিহত হতেন না। ইতিহাস সবচেয়ে যোগ্য মানুষকে তাঁর বরমাল্য পরায়। ৭ই নভেম্বরের পর সেই বরমাল্য অবধারিতভাবেই তার প্রাপ্য ছিল।

কাউকে টেনে নামানোর চেষ্টা না করাই ভালো। ইতিহাস সবার হিসেব পাইপাই করে চুকিয়ে দেয়।

9 comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • ”জিয়াউর রহমান একজন কট্টর বৃটিশ ভ্যালুজ নিয়ে পেশাদার সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। পেশাদারিত্বের কঠোর পোশাক ছিড়ে তিনি বেরিয়ে আসেন সেদিন যেদিন সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাস করতে গিয়ে ফিরে এসে নিজ কমান্ড্যার জানজুয়াকে হত্যা করেন। এইটা একটা অসম্ভব কাজ একজন পেশাদার সৈনিকের জন্য। কিন্তু তিনি ভুল করেন নাই। পেশাদারিত্বর উর্ধে কখন জাতির মুক্তির আকাঙ্খ্যাকে স্থান দিতে হয়, এই ঘটনা তাঁর উজ্জলতম উদাহরণ।”
    ______এই কথা গুলো আমি অনেককে বুঝাতে চেয়েছি, পারিনি । সেটা আমার অযোগ্যতা । আপনার মত এমন প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার না করতে পারাই এর কারন হয়তো । একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তির জন্য যেটা সহজ- পেশাদার চাকুরীজীবীর জন্য সেটা সহজ নয় । যারা এখন মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন তারা বা তাদের বাপেরা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের চাকুরীজীবী ছিল !

  • জাতীর সন্তানগণ যদি সকল বীর সন্তানকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারতো। দেশ অনেক আগেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করতো। কিন্তু আমরা যাকে ভালবাসি তাকে আসমানে উঠিয়েদেই, আর বাকিদের মাটির গর্তে পুতে দেই।-ধন্যবাদ

  • আমরা শুধু জাতীয় বীরদের যথাযথ মূল্যায়নেই ব্যার্থ হইনি, হীন স্বার্থে আমরা একে অন্যকে কি ভাবে অবমূল্যায়ন করা যায় – সেই প্রতিযোগিতায় ব্যাস্থ আছি। এটা সত্যিই দূর্ভাগ্যজনক।