August 8, 2020

“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান
শিব ঠাকুরের বিয়ে হল, তিন কন্যা দান।”

এই প্রাচীন শ্লোকের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাঙালির প্রাচীন বিবাহের সংস্কার ও রীতি। শিব ঠাকুরের সঙ্গে একসঙ্গে তিন কন্যার বিয়ের কারণ কী? “ময়নামতির গান” এও আমরা দেখি রাজ হরিশ্চন্দ্র যখন রাজা গোপীচন্দ্রের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন তখন তিনি “অদুনার বিয়া দিয়া পদুনা করিল দান”। মানের এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে আরেক মেয়েকেও দান করেছিলেন একই পাত্রের হাতে। ধর্ম মঙ্গল কাব্যের নায়ক ও এক সঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করেছিলেন।

অতুল সুর জানাচ্ছেন, এক সময় বাঙলায় এক পাত্রের সাথে সকল কন্যার বিয়ে দেয়ার রীতি ছিল। বাঙলায় একটা রীতি ছিল শালীবরণ। এর অর্থ হচ্ছে যদি কোন পুরুষ কোন মেয়েকে বিয়ে করে তবে ওই বিয়ের সঙ্গে তার বিধিবদ্ধ মৌলিক অধিকার থাকে সেই স্ত্রীর অন্যান্য ছোট বোনকেও সে বিবাহসুত্রে উপহার পায়। বাঙালি জামাইদের সাথে শালীদের যেই দুষ্টুমির সম্পর্ক আছে সেটা ওই শালীবরন প্রথার স্মৃতিবাহি। এই শালীবরন প্রথা কালে কালে লুপ্ত হয়ে যায়। জন্ম নেয় আরেক প্রথা জামাইবরন।

বাঙলায় এখনো এই প্রথা বর্তমান। বিয়ের পূর্ব মুহূর্তে কনিষ্ঠা শালীর পাণি প্রার্থী কোন পাত্রই বড় জামাইকে বস্ত্রাদি প্রভৃতি উপহারে প্রীত না করে বিয়ে বসতে পারেনা। এর পিছনের কারণও এই যে, বড় জামাইয়ের যে অধিকার ছিল শালীর প্রতি সেই অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে জন্যই প্রীত করার প্রশ্ন আসছে।

এই প্রাচীন প্রথা নাই জন্য জামাই বাবাজিদের দুঃখ করার কিছু নাই। এর পাশাপাশি আরেক প্রথা ছিল “দেবরণ”। এটা শালীবরনের বিপরিত প্রথা। দেবরন হচ্ছে জ্যেষ্ঠা ভাবির উপর দেবরের যৌন অধিকার।

এই দেবরন প্রথা ভেঙ্গে যাওয়ার পরেই বিয়ের পরে বরের দ্বার রোধ করার আচার তৈরি হয়। বর ও নববধূর বাসর দ্বার রোধ করতো বরের ছোট ভাই। বড় ভাইকে ছোট ভাই জিজ্ঞেস করতো “দাদা, আমায় বিয়ে দেবে তো?” দাদা বিয়ে দেয়ার অঙ্গিকার করলে দ্বার ছেড়ে দিত ছোট ভাই। ছোট ভাই যেহেতু ভাবীর উপর দাবী ছেড়ে দিচ্ছে তাই বিয়ের অঙ্গিকার নিয়েই দ্বার ছেড়ে দিত।

এই দ্বার রোধ করা এসে দাঁড়িয়েছে গেট ধরার আচারে। ছোট ভাইদের সাথে বোনেরাও এসে জূটে। এই আচারে আধুনিক ছোট ভাইদের কিছু টাকা দিলেই গেট ছেড়ে দেয়। এতে লাভ হল না লোকসান সেই হিসেব ছোট ভাইয়েরা করেনা। কলিযুগ বলে কথা।

Add comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *