ফ্র্যাকিং ওয়েল পেট্রোলের চাইতে অনেক বেশী ইফিসিয়েন্ট

ফ্র্যাকিং ওয়েল পেট্রোলের চাইতে অনেক বেশী ইফিসিয়েন্ট
Pinaki Bhattacharya

গত পরশু প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন: প্রশ্নোত্তর পর্বে মোজাম্মেল বাবু সাহেব বলেছেন, “এই সব পরিবেশবাদি আন্দোলনের পেছনে কাজ করে পেট্রোল ডলার। এই সব পেট্রোল বাণিজ্য অব্যাহত রাখার জন্যই কয়লার বিরোধিতা।”

সম্ভবত তিনি বলতে চেয়েছিলেন “পেট্রো ডলার”। যাই হোক; উনার বক্তব্যটা ষাটের দশকে বামপন্থীরা যে সমস্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব শোনাতো ঠিক সেই রকম। প্রথাগত পেট্রোলের যে এক্সট্র্যাকশন প্রসেস ছিল তার যুগ যে শেষ হয়ে গেছে, এবং পেট্রোলের বাজারে সেই কারণে বিশ্বব্যাপী ধ্বস নেমেছে সেই খবর সম্ভবত উনার কাছে নাই। নতুন ফুয়েল আসছে তার নাম ফ্র্যাকিং অয়েল। অ্যামেরিকার ফুয়েলের চাহিদার ৫০% এখনই পূরণ করছে ফ্র্যাকিং ওয়েল। এই ফ্র্যাকিং ওয়েল পেট্রোলের চাইতে অনেক বেশী ইফিসিয়েন্ট এবং কার্বন নিঃসরণ কম। ফ্র্যাকিং ওয়েল আসে এক ধরণের স্লেট পাথর থেকে এবং এই স্লেট পাথরের আমেরিকাতে যে বিপুল মজুদ আছে তাতে অ্যামেরিকার আগামী ১০০ বছরের জ্বালানীর প্রয়োজন মিটবে। ফ্র্যাকিং ওয়েলের কাচামালের বিশাল মজুত পাওয়া গেছে ইংল্যান্ডেও।

এর পর থেকেই মুলত তেলের বাজারে ধ্বস নামে। ভেনেজুয়েলা দেউলিয়া হবার পথে, সৌদি আরবের বাজেটে ঘাটতি। বিশ্ব রাজনীতি নতুন শেইপ নিচ্ছে। তেলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ত্ব আর আগের মত থাকছেনা। যাদের ফসিল ফুয়েল আছে তারা সব ফুয়েল তুলে ফেলতে চাইছে। রকেট গতিতে তেলের দাম কমছে আর কমছে। পেট্রোলের বানিজ্য শেষ; আর এই সময়ে পেট্রোল কয়লার সাথে যুদ্ধ করার জন্য পেট্রো ডলার ঢালবে?

প্লীজ ওয়েক আপ রিপ ভ্যান উইংকল এটা ষাটের দশক নয় ২০১৬ সাল।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment