বঙ্গবন্ধুর আমলেই প্রথম সেনাবাহিনী পাঠানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে

বঙ্গবন্ধুর আমলেই প্রথম সেনাবাহিনী পাঠানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে
Pinaki Bhattacharya

আওয়ামী সমর্থকেরা এমনকি বামেরাও প্রচার করে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিকায়ন করেছেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানই পাহাড়ে সমতলের অধিবাসী ঢুকিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের ডেমোগ্রাফি বদলে দিয়েছেন। এই দাবীর সত্যতা কতটুকু? জিয়া কি এটা শুরু করেছিলেন নাকি আগেই শুরু হওয়া পদক্ষেপগুলো চালু রেখেছিলেন?

সমতলের বাঙ্গালীকে পাহাড়ে অভিবাসিত করার কর্মসূচি শুরু হয় পাকিস্তানি আমলে। পাকিস্তানি শাসকরা পার্বত্য চট্টগ্রামে জমির প্রলোভন দেখিয়ে সমতলের বাঙ্গালীদের বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৪৭ সালে যে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল শতকরা ৯৭ ভাগ, ’৬১ সালে তা কমে ৮৫ ভাগে দাঁড়ায়। এই ধারা পরবর্তীকালেও অব্যাহত থাকে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন শুরু করে। স্বাধীনতার পরে পার্বত্য অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়। সেই ব্রিগেড ১৯৭২ সালের জুলাই পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে অপারেশন চালিয়ে তারপরে দেশে ফিরে যায়। এই তথাকথিত অপারেশন স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি আতঙ্ক তৈরি করে।

স্পেসাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের অপারেশন শুরুর সময় থেকেই এই অঞ্চলে হত্যা ও ধর্ষনের মতো অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটে।

১৯৭২-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং তার প্রায় এক বছর পর গড়ে ওঠে এই দলের সশস্ত্র শাখা “শান্তিবাহিনী”। শান্তিবাহিনী গড়ে ওঠার অন্যতম তাৎক্ষণিক কারণ ছিল পাহাড়ি গ্রামগুলোকে জুলুমের তাণ্ডব থেকে রক্ষা- তথা ‘শান্তি’ স্থাপন।

ইউ পি এল থেকে প্রকাশিত Liberation and Beyond: Indo-Bangladesh relation বইয়ে জে এন দীক্ষিত উল্লেখ করেছেন, “এই শান্তিবাহিনীকে মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধু ভারতের কাছে সুনির্দিষ্ট সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন।”

বঙ্গবন্ধুর আমলেই ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকে প্রথম সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ভেতর বিভিন্ন স্থানে সেনাসদস্যদের স্থায়ীভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় একটি সেনানিবাস স্থাপনের এবং ওই বছরের শেষ দিকে দিঘীনালায় সেনানিবাস নির্মাণের কাজে হাত দেয় বঙ্গবন্ধুর সরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যখন চেতনাপন্থীরা কথা বলেন, তখন মনে হয় শান্তিবাহিনী তৈরিই হয়েছিলো জিয়ার আমলে, প্রথম বাঙ্গালি অভিবাসন হয়েছিলো জিয়ার আমলে, প্রথম সেনা মোতায়েন হয়েছিলো জিয়ার আমলে।

কীভাবে যে তারা পারে এমন মিথ্যা প্রচার দিনের পর দিন চালিয়ে যেতে এটাই আশ্চর্য!!

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment