বাহিরে প্রগতিশীল ভেতরটা ফ্যাসিস্ট বাকশাল!

আপনি বাকশালরে ভালো কইবেন, আপনি রাষ্ট্ররে ভাড়া বাড়ির সাথে তুলনা করবেন। আবার ভাব ধরবেন আপনি বাম প্রগতিশীল, সেইটার ক্রিটিক করলে আপনি ব্যক্তি আক্রমণ করবেন, এইটা কেমন সাহিত্যিক রুচি আপনার জাকির তালুকদার ভাই? আমি তো আপনারে কোন ব্যক্তি আক্রমণ করি নাই। আপনার লেখায় তো ঈর্ষা আর ব্যক্তি আক্রমণ ছাড়া আর কিছু নাই।

আপনার সমস্যা হইলো, সোজা বাঙলায় কইলে, বাকশালের ভাল-মন্দ কী কইর‍্যা বুঝতে হইবো, বিচার করতে হইবো এইডাই বেশীর ভাগের মত আপনিও জানেন না। না জানাটা দোষের না, তবে না জানাটা আড়াল করা মারাত্মক দোষের।

আবার দেখেন আপনি ভাব ধরছেন আপনি “হিন্দু দরদী”। কিন্তু আপনার ফেলো নাগরিক কেন আপনার দরদ-ভিক্ষা করবে আর আপনি হইবেন দাতা; সে প্রশ্ন আপনার মাথায় আসে নাই। অথচ হবার কথা হিন্দুরা সহ ফেলো নাগরিকেরা সবাই আপনার সমান মর্যাদার, এটাই আপনি মনে রাখেন নাই। এটা ধরা পড়েছে যখন আপনি রাষ্ট্রকে ভাড়া বাসা কল্পনা করেছেন আর হিন্দুদেরকে বানাইছেন সেই বাসার ভাড়াটিয়া মানে আপনি হইলেন বাড়ির মালিক আর হিন্দুরা ভাড়াটিয়া – রাষ্ট্র হিন্দুদের না। এইখানে আপনার আসল মন বাসনা ধরা খাইছে। বাকশাল আর হিন্দু ভাড়াইট্টা এসব কদর্য বাসনা সামনে আইসা পড়তেছে বলে আপনি আমারে ব্যক্তি আক্রমণ করতেছেন। কারণ আপনি রাষ্ট্র, নাগরিক, অধিকারের সাম্য, নাগরিক মর্যাদা ইত্যাদি বিষয় বুঝতে মনোযোগী না। আপনার আদরের দল সিপিবিও এব্যাপারে মনোযোগী না। দেশের কমিউনিস্টরা মনে করে এগুলো “বুর্জোয়া ধারণা” ফলে পরিত্যাজ্য। ফলে দোষ আপনার একার না।

এখন আসেন ফেসবুকে,

ফেইসবুক যদি এতোই খারাপ হয়, ফেইসবুকে আইস্যা পইড়্যা থাকেন কেন? লেখালেখি করেন কেন ফেইসবুকে? ছাইড়্যা দিলেই পারেন? তা তো দেন না, কেন? এতো বড় সাহিত্যিক হইছেন আপনার বই বেচা কি বলবার মত? আপনি তো নিজেই লিখছেন ভয়ে প্রকাশকের সামনে যাননা।

আমার লেখালেখির বয়স বেশীনা, আমার গদ্য দুর্বল, বাক্য গঠনে সমস্যা থাকে, বানান ভুল হয়, আমি মানুষটাও ত্রুটিহীন নই। আমি যা লিখি তা কিছু হয় কিনা জানিনা কিন্তু মানুষ পড়তেছে। আমি যা চিন্তা করি তারে সমর্থন জানাইতেছে। আপনারটা তো নাকি অনেক কিছুই হয়,তাইলে মানুষ পড়েনা কেন? বই বেচা হয়না কেন? শুকনা মুখে বইমেলায় ঘুরতে হয় কেন? এই প্রশ্ন নিজেরে করেন আগে।

এর কারণ একটাই আসলে আপনার বাইরেটা প্রগতিশীল ভিতরেরটা ফ্যসিস্ট বাকশাল। আবার নিজে যে ফ্যাসিজম লালন করতেছেন সেটা বুঝবার কোন তরিকাও শিখেন নাই। এই কন্ট্রাডিকশন মানুষ বুঝে, মানুষ এতো বেকুব না। আপনার এই কন্ট্রাডিকশন দেইখ্যা আপনারে কইছিলাম কথা বলি আসেন, কথা বলাটা জরুরী। আপনি আসেন নাই, আমি যাইতে চাইছিলাম আপনি সময় দেন নাই। আপনি পুরস্কার নিছেন, টক শো করছেন, আড্ডা দিছেন, রাজা উজির মারছেন, কিন্তু একই মেডিক্যালের একই রাজনীতি করা পুর্ব পরিচিতের লগে যেন দেখা না হয় সেই চেষ্টা কইর‍্যা গেছেন, যেন ব্রাহ্মণ আপনার গায়ে এই নমঃশূদ্রের ছোয়া লাইগ্যা আপনার স্যেকুলার বাকশাল পুজা নষ্ট হইয়া না যায়।

আগে আপনি ক্ষমা চান বাকশালরে ভালো বলার লাইগ্যা; নয়তো ব্যাখ্যা করেন কেন আপনি বাকশালরে ভালো বলছেন। নাইলে বাকশাল যেমন বাংলাদেশের মানুষ ছুড়ে ফেলছে, আপনার মতো “বাকশাল বান্ধব” লেখকরেও ছুইড়া ফেলতে দ্বিধা করবো না।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Share

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter