৭১ এ সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতের দায়

১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন জামাতের ভুমিকা শুধু সহায়তাকারীর নয়। জামাতের ভুমিকা নেতৃত্বের। টিক্কা খানের সামরিক সরকারের অংশছিল জামাতে ইসলামী। ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বরে টিক্কা খান সরকারে যোগ দেয় জামাত ফলে চারটি মন্ত্রণালয় দেয়া হয় জামাত কে; অর্থ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার এবং শিল্প মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় গুলি গ্রহণ করে জামাত
তৎকালীন দখলদার সরকারে যোগ দেয়। এবং যেহেতু পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড জামাতের রাজনৈতিকনেতৃত্বের অধীন ছিল। সেকারণে পাকিস্থান সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের সকল অপরাধের রাজনৈতিক দায় জামাতের উপর বর্তায়। অন্যদিকে দৃশ্যত মুক্তিযোদ্ধা দের যুদ্ধ চলছিল জামাতের এই রাজনৈতিক এবং সামরিক কর্তৃত্বকে উৎখাত করার জন্য।

রাজাকার ট্রেইনিং জেনারেল নিয়াজির সফর

জামাতের এবং তাদের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মী দের দিয়ে গঠিত রাজাকার, আলবদর, আল শামস কোন বেসরকারি বাহিনি ছিলনা বরং ছিল সরাসরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অংশ। তারা শুধু সহযোগী ছিল না। ১লা জুন ১৯৭১, রাজাকার অর্ডন্যান্সের মাধ্যমে প্রথম দিকে স্থানীয়ভাবে এই সব বিশেষ বাহিনী গঠিত হলেও ৭ ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অর্ডন্যান্স জারি করে রাজাকার, আল বদর, আল শামস কে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অন্তর্ভুক্তকরে নেয়া হয়

রাজাকার বাহিনী মাসিক বেতন, রেশন এবং ইউনিফর্ম পেত।

রাজাকার, আল বদর,আল শামস পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে সামরিক বাহিনীর কমান্ডের অধীনে চলে যায়। যুদ্ধকালীন সময় অভিন্ন সামরিক কমান্ডে সামরিক বাহিনী এবং জামাতের বাহিনী গুলো (রাজাকার, আল বদর, আল সামস) পরিচালিত হতো। নিজামী এবং মুজাহিদ দুজনেই ৭ই সেপ্টেম্বরের অর্ডান্যান্স অনুসারে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর কর্তা ছিল।

১৬ ইডিসেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড যৌথ বাহিনীর কাছে আত্ম সমর্পণ করে। আইনত সামরিক বাহিনীর অংশ হিসেবে রাজাকার, আল বদর, আল শামসের কমান্ড এবং সদস্যদের একই সাথে আত্মসমর্পণ করার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র সমর্পণ করেছে কিন্তু সেই খুনে বাহিনীর কেউ আজ পর্যন্ত অস্ত্রও সমর্পণ করেনি। এই বাহিনী গুলোর অস্ত্রই পরবর্তীতে নবীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা নাশকতায় ব্যবহৃত হয়েছে অবাধে।

জামাত সুকৌশলেএই প্রচার চালিয়েছে এতদিন যে, জামাত যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিল না যুদ্ধাপরাধ করেছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। এবং পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাই “প্রকৃত যুদ্ধাপরাধি” কিন্তু সেই সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ছিল কার? জামাতের শীর্ষ নেতৃত্বের আর কর্মীরা ছিল সামরিক বাহিনীর স্বীকৃত অংশ। তাহলে সেই তথাকথিত “প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী” কারা? “প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী” জামাতের তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর কর্মীরা যারা সকল ধ্বংস, গণহত্যা, ধর্ষণের জন্য সরাসরি দায়ী। যুদ্ধাপরাধের মুল দায় জামাত কে বহন করতেই হবে।এই অপরাধ ক্ষমাহীন।

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধৃত রাজাকার

তথ্য সুত্রঃ
The Vanguard of the Islamic Revolution: TheJamaʻat-i Islami of Pakistan
http://pages.rediff.com/razakars–pakistan-/619605

Share

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Feeling social? comment with facebook here!

Subscribe to
Newsletter