মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ’৭১

Books

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটা ডমিন্যান্ট বয়ান আছে আমাদের দেশে। এই বয়ান মূলত স্যেকুলারপন্থীদের তৈরি করা। সেখানে বলা হয়ে থাকে, আমেরিকা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পক্ষে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ঠেকানোর জন্য আমেরিকা সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। এই বয়ান তৈরি করেছে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর মূলত বাংলাদেশের রুশপন্থী বামেরা এই বয়ান প্রচার করেছে। কেউ তাদের এই হেজিমনিক বয়ানকে কখনো চ্যালেইঞ্জ করেনি। আমেরিকান ডকুমেন্টগুলো অনলাইনে রিলিজ হওয়ার পরে আমরা নিখঁতভাবে জানতে পারছি আমেরিকা আসলে কী চেয়েছিল, কেন চেয়েছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে, নিক্সন প্রশাসন এটা জানত। এটা নিয়ে নিক্সন প্রশাসনের কোনো সন্দেহ ছিল না, বহু আগে থেকেই। আর এটা এতই অনিবার্য ছিল যে, সেটাকে ঠেকানোর উদ্যোগ নেয়ার কোনো চেষ্টাও করেনি আমেরিকা। কিন্তু তাদের উদ্বেগের জায়গা ছিল ভিন্ন। সেটা হলো, পাকিস্তানের অংশে থাকা কাশ্মীর। যেন এই সুযোগে, ডিসেম্বরের যুদ্ধের শেষবেলায় ভারতীয় সব সৈন্য পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে পাকিস্তান থেকে কাশ্মীর ছিনিয়ে নিয়ে না যায়। সেটা ঠেকানোই ছিল আমেরিকানদের উদ্বেগের বিষয়।প্রপাগান্ডায় আমরা শুনেছিলাম, বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়া ঠেকাতে নাকি আমেরিকা সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। এইটাও ডাহা মিথ্যা কথা। খোদ নিক্সন প্রশাসন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে নানা ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছিল।

আমেরিকা ঠিক সেই সময়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে চীনের বাজারে বিনিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছিল। পাকিস্তান ছিল এই গড়েওঠা নতুন সম্পর্কের মধ্যস্থতাকারী। তাই আমেরিকার তরফ থেকে পাকিস্তানকে ডিল করার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সতর্কতা নিতেই হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিপুল আয়তনের মার্কিন ডকুমেন্টের কিছু নির্বাচিত ডকুমেন্ট নিয়েই এখানে আলোচনা হয়েছে, সবগুলো নিয়ে নয়। এই আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন ভূমিকা বা কূটনীতি নিয়ে যেসব বয়ান চালু ছিল বা আছে তার সাথে আমেরিকান ডকুমেন্ট মিলিয়ে যেন পাঠক পড়তে পারেন। এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকে আবারো মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারেন সেই উদ্দেশ্য সামনে রেখেই ডকুমেন্টগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। এই সিরিজটি মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের জানা বোঝার জায়গাগুলো আরো পরিচ্ছন্ন করতে পারবে বলে আমাদের আশাবাদ।

প্রকাশক: সূচীপত্র

মূল্য: 250 টাকা।

বইটা কিনতে হলে এখানে ক্লিক করুন।

 

Reviews

1. Review of Markin Document E Banagladesher Mukti Juddho by Pinaki Bhattacharja, Shuchi Patra, 2017

This book is divided into short 21 chapters, each summarizing various aspects of our Liberation War. Chapter 3 informs us that among the 3 options, US was working towards making Yahya accept a political solution. Chapter tells us that US was contemplating helping Bangladesh with small arms.In Chapter 5, we learn that Kazi Zahirul Qayum, AL MP contacted the Americans with the proposal to arrive at a political solution with Pakistan because a prolonged liberation war would only facilitate the extremists. It had the backing of Moshtaque Ahmed, the foreign minister of the Mujibnagar government. According to Chapter 6, US tried to stop Sheikh Mujibur Rahman’s execution by the Pakistan army regime and that US provided a large chunk of UN relief to the 10 million Bangladesh refugees in India at that time. Chapter 7 informs us that for unknown reason there was no direct contact between Moshtaque and the Americans. According to Chapter 8, US is supposed to have pressured Pakistan for unilateral troops withdrawal and political solution. It also seems that US mobilization of 7th Fleet, encouragement to China to send troops to China-India border were attempts to save West Pakistan from attack and occupation by India.

There are several problems with these inferences. First, it is only one source of information, others being 15 volume documents on War of Liberation edited by Hasan Hafizur Rahman and various memoirs written by participants of the Liberation War. I would also request the readers to wait for IN ONE LIFE: THE MEMOIRS OF A THIRD WORLD CIVIL SERVANT (Part II) by me because I worked in the Mujibnagar government at that time. Second, policies were changing at a rapid rate at that time–India, Mujibnagar government, Soviet Union, US and China the major players were constantly responding to an ever-changing situation, as fighting on the ground intensified and human blood became as cheap as water. Third, in the US, opposition Democratic Party , Bangladeshis in the US, journalists, other civilian population were mounting pressure on the Nixon government, heavily tilted towards Pakistan in the beginning. Fourthly, the Mujibnagar government was far from being monolithic, with factions galore. There was Tajuddin Ahmad the uncompromising leader dedicated to full Liberation and there was Moshtaque and others who felt that compromise with Pakistan was the only way out. Similarly, the Indian government had their various support groups with their ramifications. Without considering all these factors, it would be difficult to jump to conclusions on the basis of only US documents. Fifth, as for as I am aware, Bangladesh Liberation Forces depended mainly on Indian arms and those that they snatched from the Pakistan Army. If US arms came, it must have gone to the Mujib Bahini trained by General SS Uban. Finally, just because it is in black and white does not mean that it is true. There could be also an attempt to white wash. Only by triangulation of more than one source can we verify the real story

On the whole, I sincerely congratulate Pinaki Bhattacharya for his painstaking effort to bring out this book. It tells us at least a part of whole story

- Kamal Siddiqui

২. বুক রিভিউ: মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ’৭১

বইটা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে এবং সেটা বাংলাদেশের স্বীকৃত ‘বোদ্ধা’ মহল থেকেই। যারা এই বইয়ের সমালোচনা করেছেন তাদের লেখাগুলো পড়েছি, পড়ছি। বেশ মজা পেয়েছি সেসব পড়ে। আমার ধারণা, সমালোচক সাহেবেরা বইটা পড়ে দেখার কষ্ট না করেই সমালোচনাগুলো করেছেন।

এই বইটা লেখকের কোন মৌলিক রচনা নয়। উনি মার্কিন ডিক্লাসিফায়েড ডক্যুমেন্টস থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীন গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিবর্গ এবং সংস্থ্যাসমূহের মধ্যে যে চিঠি চালাচালি হয়েছিল সেগুলোর পাশাপাশি আলোচনার বিবরণীগুলোকে অনুবাদ করেছেন। সেই অনুবাদের পর লেখক তার নিজের মতামতও লিখেছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- লেখক কি সেই সময়ের সবগুলো ডক্যুমেন্ট এই বইতে স্থান দিয়েছেন? এর উত্তর হচ্ছে ‘না’। লেখক নিজেই বলেছেন তিনি বাছাইকৃত কিছু ডক্যুমেন্টের অনুবাদ করেছেন। কারণ প্রকাশিত ডক্যুমেন্টের সংখ্যা এত বেশি যে, সেগুলো নিয়ে বই না লিখে এনসাইক্লোপিডিয়া লিখতে হবে।

এবার প্রশ্ন করা যায় লেখক কি কেবলমাত্র যেসব ডক্যুমেন্ট মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন অবস্থানের প্রচলিত মিথকে মিথ্যা প্রমান করতে পারে, সেগুলোই বেছে নিয়েছেন? এটা একটা গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর না জেনে লেখককে দোষারোপ করার কোন উপায় নেই। এবং এই প্রশ্নের উত্তর তাদেরকেই বের করতে হবে যারা লেখকের উপর বেজায় ক্ষেপেছেন। এই খ্যাপাদের এখন এই বইটি পড়তে হবে এবং তারপর মার্কিন ডিক্লাসিফায়েড ডক্যুমেন্টের সবগুলো পড়ে খুঁজে বের করতে হবে, লেখক কিভাবে কেবলমাত্র মার্কিনিদের নির্দোষ প্রমানের জন্য বেঁছে বেঁছে তাদের পক্ষে যাবার মত ডক্যুমেন্টগুলোই এই বইতে স্থান দিয়েছেন।

এই বইতে উল্লেখ করা অনেক ঘটনা এর আগেও বিভিন্ন ব্যক্তির বইতে পাওয়া যায়। যেমন এই বইয়ের সমালোচকদের নেক নজরে থাকা মঈদুল হাসানের লেখা ‘মূলধারা :’৭১’ বইতে উল্লেখ করা হয়েছে- “২রা অক্টোবরে (১৯৭১) পাকিস্তানের সামরিক আদালত শেখ মুজিবকে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত করে ‘মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ’ করেছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ পায়; অবশ্য একই সূত্র থেকে বলা হয় যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রবর্গকে এই নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে যে সামরিক আদালতের এই রায় কার্যকর করা থেকে তারা বিরত থাকবে” [পৃ:২১৩]। এই বইটি যখন লেখা হয়েছিল তখন মার্কিন ডক্যুমেন্টগুলো ডিক্লাসিফায়েড হয়নি। তারপরও তো মঈদুল হাসানের এই লেখার বিষয়ে কোন সমালোচনা হয়নি। এখন সেই ‘রাষ্ট্রবর্গ’ এর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম থাকার প্রমান দেখে উনারা এত ক্ষেপলেন কেন?

এইসব ‘বোদ্ধা’ সমালোচকবৃন্দের দ্বৈত অবস্থান আমাকে মাঝে মধ্যেই নির্মল বিনোদনের যোগান দেয়।

শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণার দাবী প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এদের প্রায়ই দেখবেন ‘মার্কিন ডিক্লাসিফায়েড ডক্যুমেন্ট’ রেফারেন্স হাজির করতে। কিন্তু সেই মার্কিন ডক্যুমেন্ট থেকেই যখন রেফারেন্স দেয়া হয় যে, শেখ মুজিবের প্রান রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইয়াহিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, কিংবা শেখ মুজিবের সাথে ফারল্যান্ডের যোগাযোগ ছিল। তখনই তাদের মাথা সর্ট সার্কিট হয়ে যায়! আজব সব বোদ্ধা!

যাই হোক, বইটি ইতিমধ্যেই একটা বেস্ট সেলারে পরিনত হয়েছে। বইমেলার সময়ের বাইরে, উপন্যাস, ধর্মীয় বা পাঠ্য পুস্তক না হবার পরও একটি রাজনৈতিক ইতিহাসের অনুবাদগ্রন্থের এমন জনপ্রিয় হওয়া খুবই ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। আমার ধারণা লেখক নিজে কিংবা প্রকাশকও এমনটা আন্দাজ করতে পারেন নাই।

আসল কথা হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের সময় পরাশক্তিদের মধ্যে আমাদের প্রত্যক্ষ মিত্র ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। যুদ্ধে আমাদের প্রতি তাদের সহায়তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাদের মতাবলম্বী ‘বোদ্ধা’দের মাধ্যমে আমাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী কিছু অতিরঞ্জিত মিথ তৈরী হয়েছিল। সেই মিথগুলোকে মিথ্যা প্রমান করে দেবার মত কিছু সত্য রেফারেন্স এই বইটিতে আছে। আর এই রেফারেন্সগুলোই পাঠকদের মনযোগ আকর্ষণ করেছে।

পরিশেষে আমি লেখক এবং প্রকাশককে অনুরোধ করবো বইটির পরবর্তী সংষ্করণে বইটি সম্পর্কে এর সমালোচকদের সমালোচনাগুলোও যোগ করে দিতে। বাংলাদেশে একদা কোন ধরণের লোকজন ‘বোদ্ধা’ হিসেবে খ্যাতিমান হয়েছিল পরবর্তী প্রজন্ম সেই ইতিহাস জেনে আমার মতই বিমলানন্দ পাবে আশা করছি।

- A K M Wahiduzzaman

৩. বুক রিভিউ: মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ’৭১

আমি মুলত একজন ভালো পাঠক।
সব ধরণের লেখাই আমার পছন্দ যদি সেটা মানসম্পন্ন এবং সেখানে যদি শেখার কিছু থাকে।

আমি অনলাইনে বা সোসাল মিডিয়াতে নিয়মিত লেখালেখি করছি বছর খানেকও হয়নি।

সাধারণত কোন একটা লেখা সুপাঠ্য কিনা সেটা লেখার শুরুতেই বুঝে ফেলা সম্ভব। গবেষকদের কথায় মানুষ কোন একটা লেখা পড়বে কি না সেটা সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ৪ সেকেন্ড সময় নেয়। অর্থাৎ মাত্র ৪ সেকেন্ডেই একজন মানুষ ধরে ফেলতে পারে এই লেখাটা তার ভালো লাগছে কি না?

আমার সবচে বেশী আগ্রহ বিজ্ঞানে।
এরপর ধর্মীয় এবং নিরেট সাহিত্য আমার প্রিয়।
ভ্রমনপ্রিয় মানুষ যদিও আমি- কিন্তু ভ্রমনের উপর লেখাগুলি আমায় টানে না। আমার ভালোলাগা জুড়ে থাকে পৃথিবীর ভৌগলিক ভিন্নতা, বৈচিত্র এবং ভিনগ্রহগুলো নিয়ে আলোচনা।

যে-কোন একটা লাইন পড়ার সংগে সংগেই আমার ভেতরে একটা অটোক্যালকুলেটর কাজ করে। আমি মুহুর্তে চলে যাই সেই স্থান ও কালে। নিজে হয়ে উঠি সেই চরিত্রগুলোরই একজন। এবং আমার খোলা মন নিয়ে বুঝে নিই কথাটা কতটুকু সত্য, বাস্তবতা এবং ইতিহাস ও যুক্তি নির্ভর! যোগ বিয়োগ আমি বেশ ভালোই বুঝি। ডিপ্লোমেটিক চালগুলিও আমার কাছে সহজবোধ্য এবং চক্ষু বন্ধ করে দেখার পারদর্শীতাও আমার খারাপ না।

এজ এ রেজাল্ট যেটা দাঁড়ায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি বক্তব্যের সত্যমিথ্যা ধরে ফেলতে পারি।

বাংলাদেশের মিডিয়া, লেখালেখির জগৎ এবং সাংস্কৃতিক অংগনটি মুলত কিছু নষ্ট লোকদের নিয়ন্ত্রনে। একটা দেশের যাবতীয় ভালো-মন্দের উপর যার নিয়ন্ত্রণ বহুলাংশে নির্ভরশীল।

বাম ও সেকুলার ঘরোনার লোকগুলিই এসবের নিয়ন্ত্রক।

বাংলাদেশের ৮০% লোক বামপন্থাকে অপছন্দ করে।
কিন্তু এই বামপন্থাই ঐ ৮০% নিরীহ লোকের উপর তাদের রাজত্ব চালায়। এটা একটা অত্যন্ত কষ্টকর বাস্তবতা।

এরশাদ বা বেগম জিয়া প্রায় ২০ বছর ক্ষমতায় থেকেও সভ্য এবং রুচিশীল কোন মিডিয়া-সংবাদপত্র বা লেখকগোষ্ঠী তৈরী করে যেতে পারেননি। বরং তারাও বামদের উপরই নির্ভরতায় মজেছেন; এবং ঠিক এই কারণেই আজ তার বিদ্রুপক রেজাল্টও ভোগ করে যাচ্ছেন।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাটি বাংলাদেশের সবচে বেশী সময় ধরে জনপ্রিয় পত্রিকা হিসাবে টিকে ছিল। পত্রিকাটি সবসময় সত্য সংবাদ প্রকাশ করতো। বরাবরই সরকার ঘেষা থাকলেও সংবাদের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা ছিল।

কিন্তু প্রথম আলো পত্রিকাটি অত্যন্ত বাজে ও নিন্দনীয় সাংবাদিকতার বৈশিষ্ঠ্য নিয়েও বর্তমানে দেশের অপ্রতিদ্বন্দী একটি দৈনিকে পরিণত হয়েছে।

প্রথম আলো মুলত কোন সংবাদ প্রকাশ করে না; প্রথম আলো যেটা করে সেটা হলো ‘ঘটিত সংবাদটি’ নিয়ে তাদের নিজস্ব মতবাদ প্রকাশ করে।

এটাকে সাংবাদিকতা বলে না- প্রথম আলো সাংবাদিকতার নামে সংবাদশিল্পটিকে ধর্ষন করে যাচ্ছে।

অথচ, তারপরও জনপ্রিয়তায় অন্য পত্রিকাগুলি প্রথম আলোর ধারে-কাছেও ভিড়তে পারছে না।

এর কারণ কি?
উত্তরটি কিন্তু খুবই সহজ-সরল।

প্রথম আলো পত্রিকাটির গেটাপ, ছাপার মান, পেপার কোয়ালিটি, সংবাদ উপস্থাপনার ধরণ এবং সর্বপরি শিল্পমান অসাধারণ সুন্দর।

এতটাই সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন যে- নীচু ও নোংড়া মানসিকতারপূর্ণ সাংবাদিকতার আপেক্ষিক গুরুত্ব তাদের চমৎকার ও উন্নত শিল্পমানের কাছে পরাজিত হয়েছে।

বাজারে ‘এতটা মানসম্পন্ন’ দ্বিতীয় কোন পত্রিকা অনুপস্থিত।
ইত্তেফাকে শৈল্পিক সৌন্দর্য বলতে কিছু নেই। নয়াদিগন্ত বা মাহমুদুর রহমানের আমার দেশ শুধুই বিএনপি পত্রিকা। নেই কোন রুচিজ্ঞান বা শৈল্পিক সৌন্দর্য কিংম্বা মানসম্পন্ন সংবাদ পরিবেশনা।

প্রথম আলোকে পরাজিত করতে হলে- তারচেও উন্নত গেটাপ, রুচিসম্পন্ন ও আধুনিক প্রিন্ট, পেপার, সংবাদ উপস্থাপনার কোয়ালিটি ইত্যাদিসহ সবকিছুতেই সত্য ও বাস্তবতানির্ভর মানসম্পন্ন নিউজ পরিবেশনা করতে হবে। সেটা করার মতো লোক কোথায়?

সুতরাং আপনি শুধু প্রথম আলোকে ঘৃণাই করতে পারবেন কিন্তু তাকে হারাতে পারার যোগ্যতা আপনার নেই। প্রথম আলো আপনার উপরেই থাকবে। আপনার বাসায় আপনার স্ত্রী-পুত্র-কন্যারাও প্রথম আলোই পড়তে চাবে।

আর প্রথম আলো মানেই বামপন্থা এবং নাস্তিকতার প্রচারণা।

এবং সবচে বড় কথা বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম মানসম্পন্ন লেখকও বাম-নাস্তিক ঘরোনার অথবা সত্যপন্থী লেখকরা প্রচারণায় আসতে পারছে না।

আমি নিয়মিত লেখক নই।
দেশে থাকতে বছরে হয়তো এক-আধটা আর্টিকেল লিখতাম। আমি জানি আমার লেখা দেশের বামপন্থী পত্রিকাগুলি ছাপানোর স্পর্ধা রাখে না। তারপরও প্রথম আলো, জনকষ্ঠসহ আরো কয়েকটা পত্রিকাতে কালে-ভদ্রে ছাপা হয়েছে।

যাই হোক, গত বছর থেকে হঠাৎই মনে হলো নিয়মিত লিখি-ই না; দেখা যাক কি দাড়ায়! তারপরই শুরুও করলাম।

আজ নিজের কথা বলতে আজ লিখতে বসিনি। ভূমিকা দিলাম।
বাংলাদেশের অধিকাংশ লেখকই দালাল শ্রেণীর। বিশেষ করে প্রথম আলো, জনকন্ঠ, সংবাদ বা কালের কন্ঠে যারা নিয়মিত লেখেন। আমি তাদের লেখা পড়ি কিন্তু অপছন্দ ও ঘৃণা চলে আসে তাদের প্রতি।

তারপরও পড়ি। ওদের চিন্তার আপডেট রাখতেই পড়ি।

সোসাল মিডিয়াতে লেখালেখি বা ব্লগপোষ্টগুলি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। আমি অনেকের লেখাই পড়ার চেষ্টা করি। নির্মলেন্দু গুণ, তসলিমা নাসরিন, আবু হাসান শাহরিয়ার এই তিনজনের লেখা কবিতার ভক্ত আমি। এদের মধ্যে তসলিমা নাসরিন গদ্যও লেখেন- যদিও তার গদ্য বা আর্টিকেল লেখার মান খুবই খারাপ এবং অরুচিকর, আমি পড়তে পারি না বিরক্ত হই।

সোসাল মিডিয়ায় এদের ছোট ছোট স্ট্যাটাসগুলিতে তাদের চরিত্রের দৈনতাও ফুটে উঠে অতি সহজেই- তাদের ব্যক্তিজীবনের প্রতিও শ্রদ্ধা হারাই। সেই সংগে দেখতে পাই বিশ্বব্যাপী পরাজিত ও বাতিল বামপন্থা কিভাবে নাস্তিকতার নামে তথাকথিত মুক্তচিন্তার ফেরী করে বেড়াচ্ছে। আর তাদেরই প্রকৃত মার্কেটপ্লেস ঐ প্রথমআলো।

আবার বেশ কয়েকজন অপরিচিত অথচ বেশ ভালো মানের লেখকও খুঁজে পেয়েছি আমি। বামপন্থারও বেশ কয়েজন খুবই ভালো মানের লেখকও আমি খুঁজে পেয়েছি এই বছরখানেকের মধ্যেই। তাদেরও নিয়মিত পড়ছি। আমি অবশ্য কমেন্ট খুবই কম করি।

যাই হোক এরকম অসংখ্য লেখকদের মধ্যে ‘একজন’ ব্যক্তি হঠাৎই আমার দৃষ্টি অাকর্ষনে সক্ষম হন। আমি তার প্রফাইল থেকে প্রচারিত লেখা বা স্ট্যাটাসগুলি যুক্তি ও বাস্তবতা দিয়ে ঠিক মেলাতে পারছিলাম না। নিজের কাছেই নিজের অভিজ্ঞতায় বিব্রত হতাম।

তিনি পিনাকী ভট্রাচার্য।
নামে বোঝা যায় তিনি একজন উচ্চগোত্রের হিন্দু ভদ্রলোক।
অগাধ পড়াশোনা তার, নিয়মিত প্রচুর পড়াশোনা করেন। পেশায় চিকিৎসক।

অথচ ওনার স্ট্যাটাসগুলি, ওনার আর্টিকেলগুলি আমাকে ভাবিয়ে তুলে। অবাক হয়ে ওনার লেখা আমি পড়ি এবং ওনাকে বোঝার চেষ্টা করি।

অনেক বিষয়েই ওনার সংগে আমার মতের মিল হয়না কিন্তু তার লেখার গভীরতাকে অশ্রদ্ধা জানাবো সেই সক্ষমতাই আমার নেই।

বাংলাদেশের ১০০ হাজার মুসলমান মিলে যতটুকু না তাদের মনের কথা বলতে পারেন- এক পিনাকী ভট্রাচার্য একাই তারচেও হাজারগুন বেশী- তাদেরই মনের কথা যুক্তি, তথ্য, তত্ত্ব, সংখ্যা, উপাত্ত ও ডাটাবেজ ধরে ধরে হিসাবে মিলিয়ে প্রকাশ করে চলছেন।

পিনাকী ভট্রাচার্য একজন একশতভাগ খাঁটি বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদী ভদ্রলোক। তিনি যুক্তি বুঝেন, সত্য বুঝেন এবং সত্যের ফেরী করেন।

যতটুকু বুঝি একসময় বাম রাজনীতির সংগে উনি যুক্ত ছিলেন। বামতন্ত্র নিয়ে ওনার পড়াশোনাও ব্যাপক। মার্কস-লেনিন ওনার মুখস্থ। সেই সংগে সোভিয়েট ইউনিয়ন, কিউবা, উত্তর কোরিয়া বা চায়নার সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম এবং বাস্তবতা সম্পর্কে ওনার হিসাব পরিস্কার এবং ট্রান্সপারেন্ট।

ভদ্রলোক সততায় বিশ্বাসী এবং উদার মানসিকতাসম্পন্ন।
একজন মুসলিমের মনের অনেক কথাই তিনি তার কলম দিয়ে প্রকাশ করে দিতে অদ্বিতীয়।

কারণ তিনি বাম সূত্রগুলিও জানেন আবার সততা ও বাস্তবতায় কালকুলেশনও করতে পারেন। যে কারণে তার কলম দিয়ে যা বের হয় সেটা যুক্তিকে প্রকাশ করে পরিস্কার পানির মতো।

আর ‘একজন পিনাকী ভট্রাচার্য’ অতি অবশ্যই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের সো-কলড বামদের জন্য ত্রাস। ক্ষিপ্রগতিতে তিনি আক্রমণ সানান মিথ্যার উপর ভর করে চলা ঐসকল বামদের, সেকুলারদের।

আর এতেই তাদের শরীরে কম্পন ধরে, নাস্তিকতা পালাবার পথ খোঁজে। বামদের তো লজ্জা থাকতে নেই তাই তারা প্রকাশ্যে জামা-কাপড় ভিজিয়েও মুখ লুকায় না।

আরও মজার বিষয়টা হলো একজন পিনাকী আজ হাজারটা সেকুলারের বিপক্ষে একাই একজন ত্রাস। পিনাকী প্রতি মুহুর্তে যেন একটা একটা করে সেকুলারকে ধোলাই দিয়ে যাচ্ছেন।

ঠিক এই অবস্থায় পিনাকী ভট্রাচার্যের লেখা মুক্তিযুদ্ধের শক্তিশালী দালিলিক গ্রন্থ ‘মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ প্রকাশিত হয়।

আর এতেই বাংলাদেশী ওসব নষ্ট বাম-কাম-সেকুলারগুলোর বুকে আগুন ধরে উঠে। দিকবিদিক জ্ঞানশূন্যের মতো আচরণ, হামলা আসতে থাকে সোসাল মিডিয়াতে পিনাকী ভট্রাচার্যের উপর। ইতিমধ্যে বইটি তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

এবং এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের লাইব্রেরী থেকে বইটি ফেরত পাঠিয়েছে- তারা সেটা বিক্রি করতে দেবে না।

পিনাকী’র ভাষা-তেই বলি, ‘মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর বাংলাদেশের আপামর জনগনের দানে নির্মিত হয়েছে; তার উপরে হক বাংলাদেশের সব জনগনের, তাই তারা এমন কোন তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা যা পলিটিক্যালি বায়াসড।’

‘মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর’ও এখন বাংলাদেশের সবচে বড় নাস্তিক ও মুসলিমদের শত্রু শেখ হাসিনারই নিয়ন্ত্রনাধীন। সব দালাল আর মোসাহেবরা সেখানেও বসে হাসিনার তোষামদীতেই ব্যস্ত। আমার বিশ্বাস ওসব তোষামদরা পিনাকী’দার বইটি পড়েও দেখেননি। কিন্তু ‘পিনাকী’ নামটাই আজ তাদের কলিজায় কাঁপন ধরায়।

এই কাঁপন আর থামবে না।
আমি বিশ্বাস করি এই কাঁপনেই উপড়ে পড়বে সব অসত্য আর নস্টামী। বিলুপ্ত হবে বাংলাদেশ থেকে বাম আর নাস্কিকতা।

সত্যের জয় হবে, মিথ্যা পরাজিত হবে। এইটা পবিত্র সত্য।

- তৌফিকুল ইসলাম পিয়াস

৪. বুক রিভিউ: মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ’৭১

পিনাকী ভট্টাচার্যের লিখা মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ’৭১ বইটি পড়লাম। বইটি নিয়ে নাকি অনেকে মন্তব্য করেছেন এখানে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। পুরা বইটাতে ইতিহাস বিকৃতির কিছুই পেলাম না। বইটি কোন ইতিহাস বা গবেষনা গ্রন্থও বলে আমার মনে হয়নি। বইটিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধিনতা যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন সরকার এরই প্রকাশিত কিছু দলিলের ভিত্তিতে লিখা। দলিল গুলি মুলত সেসময় বাংলাদেশ,পাকিস্তান ভারত সম্পর্কে মার্কিন সরকার এর কূটনৈতিক দের পাঠান রিপোর্ট এবং সেই রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য নিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা ও মার্কিন নিতি নির্ধারন বিষয়ে নিক্সন সরকার এর বিভিন্ন বৈঠক এর কার্যবিবরনি। এই কার্যবিবরনিগুলি দির্ঘদিন স্বাভাবিক নিয়মেই গোপনিয় ছিল। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুসারে নির্দৃষ্ট সময় পার হওয়ার পর জন সাধারন এর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেসময় সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের আত্মজীবনি বা স্মৃতিচারন থেকেও কিছু তথ্য নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে মার্কিন প্রকাশিত দলিল গুলির সার সংক্ষেপ কে লেখক বাংলায় নিজের মত করে উপস্থাপন করেছেন।

বইটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন ভুমিকা সম্পর্ প্রচলিত কিছু মত কে মিথ্যা প্রমান করেছে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই মিথ্যা প্রমান এর দায়িত্ব শুধু লেখক এর নয়। বরং মার্কিন সরকার এর দলিল এটাই প্রমান করে যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা মোটামুটি এটা নিশ্চিত ছিল যে বাংলাদেশ স্বাধিন হবে। তারা এটাই চেষ্টা করছিল যে তৎকালিন বাইপোলার বিশ্বে সোভিয়েট জোটভুক্ত ভারত যেন পাকিস্তান তথা পশ্চিম পাকিস্তান কে গ্রাস করতে না পারে। অন্যদিতে স্বাধিন বাংলাদেশও যেন সোভিয়েট বলয় তে না ঢুকে। বইটিতে শেখ মুজিবুর রহমান কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আস্থাভাজন দেখান কে অনেকেই ভুল মনে করতে পারেন। কিন্তু এটা ভুল নয়। শেখ সাহেব মুক্তিযদ্ধের সামান্য আগেও মার্কিন পন্থি হিসেবে সুপরচিত ছিলেন। তার রাজনৈতিক গুরু হুসাইন শহিদ সুহরাওয়ার্দিরও এই পরিচিত ছিল। সুহরাওয়ার্দি সম্ভবত প্রথম পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রি হিসেবে ১৯৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ এর একটা অংশও গোপনে শেখ সাহেব কে মার্কিন দালাল বলে সম্বোধন করত। কবি আল মাহমুদ তার এক প্রকাশিত আলাপ চারিতায় বলেছেন যে যখন মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব আন্দোলন চলছে তখন আরেকজন বিখ্যাত কবি তাকে রাস্তায় থামিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি কেন ভন্ড মার্কিন দালাল শেখ মুজিব কে সমর্থন করেন!

বইটিতে লেখক নিজের থেকে কোন বিশেষ মত বা থিওরি প্রকাশ করেন নি। শুধু মার্কিন দলিল থেকে নেওয়া তথ্যগুলির সার সংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন। তাই এই বই এর জন্য কোনভাবেই লেখক এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করা যয়না। অভিযোগ যদি করতেই হয় সেটা করা প্রয়োজন মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগ বাংলাদেশ বা ভারত থেকে পাকিস্তান এরই বেশি করা উচিত যে কেন আমেরিকা প্রায় নিরপেক্ষতার ভান ধরে পাকিস্তান কে দুইভাগ হতে দিল! বইটির তথ্যগুলির সমর্থন করা হয়েছে ভারতিয় জেনারেল জেএফআর জ্যাকব এর “সারেন্ডার এট ঢাকা: বার্থ অফ এ নেশন” বইটিতে এবং এর পরিশিষ্টে সংযুক্ত কিছু মার্কিন দলিলে। এছাড়া ডঃ জি ডব্লিউ চৌধুরির “লাষ্ট ডেজ অভ ইউনাইটেড পাকিস্তান” বইতেও মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন ভুমিকার বিষয়ে আলোচনা আছে।

জহির রায়হান এর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প আমাদের এসএসসি পরীক্ষায় পাঠ্য ছিলসময়ের প্রয়োজনে”। গল্পটিতে এক জায়গায় এক মুক্তিযোদ্ধা সহযোদ্ধা দের প্রশ্ন করছে আমরা যুদ্ধ করছি কেন? একেক জন একেক রকম উত্তর দেয়। শেষে লেখকের জবানিতে উত্তর দেন যে যুদ্ধ হচ্ছে। ‘‘সময়ের প্রয়োজনে’’ । আসলেই এটাই একমাত্র সত্য। সময়ের প্রয়োজন ছিল স্বাধিন বাংলাদেশের। সেটা হয়ত যুদ্ধ ছাড়া গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও অর্জিত হত। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক দের অযোগ্যতা ও জোর করে জনগন এর মত পরিবর্তন করার চেষ্টাই মুক্তিযুদ্ধের সৃষ্টি করেছিল। সাথে ভারতের ও কিছু কূটনৈতিক উদ্যোগ ছিল সন্দেহ নেই। আজ ৪৬ বছর পর ১৯৭১ সালে কে যুদ্ধ করেছিল কে বিরোধিতা করেছিল সেটা নিয়ে জাতিকে বিভক্ত করাও একটা বোকামি। বরং সময়ের প্রয়োজনটুকু মেনে নিয়ে ভবিষ্যেতের দিকে তাকান উচিত সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ এর জন্য।

- সবুজ কবির