Documents on misdeeds by Sheikh Mujib government missing from the state archives

Documents on misdeeds by Sheikh Mujib government missing from the state archives
Pinaki Bhattacharya

When I was doing research for my yet-to-be-published book of Swadheenata Uttor Bangladesh (Bangladesh after independence), I was shocked to discover how many important documents of our political history had been made to disappear. When I was going through the archives I found some pages- which appeared to be carrying some valuable information- missing. Information about all or most of the misdeeds committed by the pro-government forces during the period of Sheikh Mujib has been erased this way.

A photograph, which was then shot and sensationally well-known as “Jaal Pora Basanti” or “Basanti in a fishing net”, has also been removed from the archive.

In 1974, Bangladesh witnessed a massive famine mostly because of gross mismanagement by the government. Almost every household across the country was affected by the famine. Tens of thousands of hungry and emaciated people roam around looking for food. Every day the newspapers published photos of famine-affected hungry and dying people. According to an estimate by the government, the famine killed at least 30,000 people in Bangladesh.

Photo journalist Aftab Ahmed took the photo of “Jaal Para Basanti” then. This photo was published on the front page of the Dainik Ittefaq newspaper. This iconic photo became the face of the famine in Bangladesh across the world at that time.

The photo showed Basanti, a young woman, somehow attempted to cover herself using a fishing net, while she moved around on a banana raft and collected eatable parts of the banana plant. Durgati Rani, another famine-affected woman was controlling the movement of the raft on the floodwater, with the help of a bamboo pole. The photo reflected the poverty and hunger that ravaged Bangladesh during that famine. The photo caused embarrassment for Mujib government internationally. The state authorities issued a statement then that the photo was circulated by some vested party in a conspiracy to embarrass Sheikh Mujib and his government.

However, an interesting fact is that it was a village-level Awami League activist who took the Ittefaq photographer Mr. Ahmed to the place where Basanti was looking for foods. The photographer was later awarded Ekushey Padak- Bangladesh’s second-highest civilian award (medal).

Ahmed was well-known as a photographer of the Liberation War. The iconic photo of General Niazi, when he was reading the document on the surrender by Pakistani forces on December 16, 1971, before signing it, was shot by Ahmed.

In recent years Awami League has launched a campaign claiming that the photo of Jaal Para Basanti was a staged one. But that was not the case.

That photo of Basanti was later removed from the archive. However, in somewhat damaged condition, the original photo has been retrieved from some sources. I have managed to get a high-resolution copy of that photo from a source. It is not that important to reveal the identity of the source.

Awami League was very angry with Mr. Ahmed. The party believed, the photo of Jaal Pora Basanti played a role in the killing of Sheikh Mujib.

On December 25, 2013, Mr Ahmed was found murdered inside his residence which was located at 63, Wapda Road, Paschim Rampura in Dhaka. Pro-government groups campaigned that the photojournalist had been murdered by robbers. Police closed the case quickly after noting that some unidentified “robbers” had killed him during a robbery at his place.

Mr. Ahmed was 78 years old when he was murdered. The old photojournalist lived alone in that house. People across the country knew and loved him. He had no enmity with anyone.

In 2006, during the regime of BNP, Ahmed was awarded Ekushey Padak for his contribution to photography. In 2010, on return from India, where he went for medical treatment, he found his residence ransacked. Unknown people had broken into his house during his absence. His daughter then told the journalists: “They broke into our house and took away my father’s gold medal or Ekushey Padak. Many police officials and journalists visited our place then. None was arrested for the crime.

Please take note of the chronology of the events. In 2010, his house was ransacked and his Ekushey Padak went missing. In 2013, he was murdered by “unidentified robbers”-as reported by police. Does it appear like a murder by some people who came to rob the house of Ahmed?

Does the murder of Mr. Ahmed appear like a crime committed by regular robbers? No, it does not. Were the theft of the Ekushey Padak and then the murder of the photojournalist somehow connected to the photo of “Jaal Pora Basantee”?

One day, certainly in a changed situation in the country the murder of Mr. Ahmed would be properly investigated. I will try to bring the case of the murder of photojournalist Mr. Ahmed to the notice of Reporters without Borders. They should conduct an inquiry into the murder and document the case. The new generation should know what Awami League introduces as a golden era for Bangladesh was, in fact, a period of horrible misrule and miseries.

Click here to read the original Facebook post

আমার লেখা প্রকাশিতব্য স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ বইটা লেখার সময় রিসার্চ করতে গিয়ে সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোকে যে গায়েব করে দেয়া হয়েছে সেটা জানতে পারা।

পুরনো আর্কাইভ ঘাটতে গিয়ে দেখেছি মাঝ থেকে একটা দুইটা পাতা হাওয়া, ঠিক যেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার কথা ছিলো। মুজিব আমলে সরকার ও শাসকদলের বিভিন্ন কুকীর্তির ইতিহাস এভাবেই হাপিস করে দেয়া হয়েছে।

হাপিস করে দেয়া হয়েছে “জাল পরা বাসন্তী” নামের এই তুমুল আলোচিত ছবিটাও।

১৯৭৪ সালে সরকারী অব্যবস্থায় দেখা দেয় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। সারা দেশ জুড়ে শুরু হয় ঘরে ঘরে অভাব। আকালের মারণ ছোবলে শত শত মানুষ তখন ভুখা-নাঙ্গা। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা জুড়ে দুর্ভিক্ষের শিকার মৃত মানুষের সচিত্র দলিল। সারা দেশের আকাশ বাতাস তখন ক্ষুধার্ত মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে। সরকারী হিসাবেই তখন দুর্ভিক্ষের কারণে তিরিশ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানানো হয়।

সেই সময়ে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ এই “জাল পরা বাসন্তী” ছবিটা তোলেন। ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় ছাপা হয় ছবিটা। বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের রূপ সারা দুনিয়াতে এই ছবির মধ্য দিয়ে মূর্ত হয়।

ছবিতে দেখা যায় বাসন্তী নামের এক যুবতী তার সমস্ত শরীরে মাছ ধরার জাল পরে লজ্জা নিবারণের মিথ্যে সান্তনা বুকে নিয়ে কলা গাছের ভেলায় চড়ে কলাগাছের মাঞ্জা বা পাতা সংগ্রহ করছেন। সেই ভেলায় আরেকজন নারী শ্রীমতি দুর্গতি রাণী বাঁশ হাতে ভেলার অন্য প্রান্তে বসে নিয়ন্ত্রণ করছেন বন্যার পানিতে ভেসে চলা ভেলাটিকে। চরম দারিদ্র আর তার সাথে মিলিত ক্ষুধার দুঃসহ প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে ছবিটা। দেশে-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। বাসন্তীর জাল পরা ছবিটিকে ঘিরে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ক্ষমতাসীন শেখ মুজিব সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে ছবিটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করা হয়।

অথচ কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে, ইত্তেফাকের সেই আলোকচিত্রী আফতাব আহমেদকে বাসন্তীর কাছে যে নিয়ে গিয়েছিল সে ছিলো আওয়ামী লীগের গ্রাম-পর্যায়ের এক কর্মী। তার নাম ছিলো আনসার আলী। আফতাব আহমেদ পরবর্তীতে একুশে পদক পান।

আফতাব আহমেদ ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা চিত্র সাংবাদিক। আমরা ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের আগে জেনারেল নিয়াজী যে আত্মসমর্পণের দলিল পড়ছেন সেই বিখ্যাত ছবিটা দেখি, সেটাও তুলেছিলেন আফতাব আহমেদ।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো জোর প্রচার চালানো হয় “জাল পরা বাসন্তী” ছবিটা সাজানো ছবি ছিলো। কিন্তু ছবিটা সাজানো ছিলো না।

বাসন্তীর এই ছবিটাও গায়েব করে দেয়া হয়েছে। মূল ছবিটা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটাকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা গেছে। হাই রিজল্যুশন ছবিটার একটা কপি আমি সংগ্রহ করেছি। কার কাছে থেকে সংগ্রহ করেছি সেটা আর আজ না বলি।

আফতাব আহমেদের উপরে আওয়ামী লীগের প্রচণ্ড রাগ ছিলো। তারা মনে করে শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের জন্য আফতাব আহমেদের তোলা ওই বাসন্তীর ছবিটার বড় ভূমিকা আছে।

২০১৩ সালে ৬৩ নম্বর পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডের চারতলা বাসার তৃতীয় তলায় খুন হন ইত্তেফাকের সাবেক প্রধান ফটো সাংবাদিক আফতাব আহমেদ। প্রচার করা হয় ডাকাতেরা ডাকাতি করতে এসে আফতাব আহমেদকে খুন করে যায়। পুলিশ এভাবেই মামলা ক্লোজ করে দেয়।

তিনি যখন খুন হন তখন তিনি বৃদ্ধ মানুষ। বাড়িতে একা থাকতেন। কোনো শত্রু ছিল না তার। কারো সঙ্গে কোনো বিষয়ে বিরোধও ছিল না। তাকে যারা হত্যা করে তারা কি সত্যি ডাকাত ছিলো? এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ মানুষের বাসস্থান কেউ ডাকাতির জন্য লক্ষ্য করেছিলো তা কি সহজে বিশ্বাস করা যায়?

আফতাব আহমেদ ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে, তাঁর ফটোসাংবাদিকতায় অবদানের জন্য একুশে পদক পান। ২০১০ সালে আফতাব আহমেদ চিকিতসার জন্য ভারত যান। ভারত থেকে ফিরে এসে দেখেন যে, ঘরের সবকিছু তছনছ করা। আফতাব আহমেদের মেয়ে তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলো, “গেট ভেঙে বাবার সোনার পদক (একুশে পদক) চুরি হয়েছে। কত পুলিশ কত সাংবাদিক আসলেন। কাউকেই আটক করা হয়নি।”

তারিখগুলো খেয়াল করুন ২০১০ সালে বাসা তছনছ করে একুশে পদক চুরি। ২০১৩ সালে খুন। ডাকাতি বলে সেই খুনের মামলা ধামাচাপা দেয়া।

এখন কি আফতাব আহমেদের খুনটা স্বাভাবিক বলে মনে হয় আপনার?

আমার মনে হয়না।

আফতাব আহমেদকে খুন করা, তার আগে একুশে পদক চুরি করা এসবের সাথে কি বাসন্তীর জাল পরা ছবির কোন যোগসূত্র আছে?

নিশ্চয়ই ইতিহাস একদিন আফতাব আহমেদের হত্যাকান্ডের পুনঃতদন্ত করবে। আমি আফতাব আহমেদের কেইসটা রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারের গোচরে আনবো। যেন তারা এটা ডকুমেন্ট করেন। আমার পাঠকের জন্য বাসন্তীর জাল পরা ছবিটা দিলাম। নতুন প্রজন্মের জানা দরকার যাকে আওয়ামী লীগ স্বর্ণযুগ বলে পরিচয় করিয়ে দেয় তা আসলে কেমন বীভৎস দুঃশাসন ছিলো।

লেখাটির ফেইসবুক ভার্সন পড়তে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Comment